শান্তিনগরের শায়লা ইসলাম ভারতীয় ভিসা নিয়েছিলেন কোভিডের আগে। কোভিড চলে আসায় আর যাওয়া হয়নি। এবার ঈদের ছুটিটা লম্বা বলে সুযোগটা নিতে চান তিনি। বেশ কিছুদিন ধরে শরীরটা ভালো যাচ্ছে না আবু আফনান সাকিবের। অনেক ডাক্তার দেখিয়েছেন, কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। ঈদের লম্বা ছুটিতে যাচ্ছেন সিঙ্গাপুরে। সিঙ্গাপুরেই থাকেন ছোট ভাই। তাই চিকিত্সার সঙ্গে বেড়ানোও হবে।
এভাবে ঈদ সামনে রেখে দেশ ছাড়ছেন প্রায় ২০ লাখ মানুষ—এমন তথ্য জানিয়েছে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব), টু্যরিজম ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিডাব)সহ সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, দেশের মধ্যে ১ কোটি মানুষ ঈদে বেড়াতে যাবে। গত দুই বছর করোনায় পর্যটন শিল্পে ২০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এ বছর ঈদে দেশের মধ্যে পর্যটন খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা আয় হবে এবং দেশের বাইরে পর্যটকেরা ৭ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাবে, যার ১০ শতাংশ আয় করবে দেশীয় ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান। এজন্য নানা রকম প্রচার-প্রচারণা ও প্যাকেজের আয়োজন করেছে ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠানগুলো।
তাদের মতে, ঈদে সবচেয়ে বেশি মানুষ যাবে ভারতে। প্রতিদিন ভারতের ভিসার জন্য ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ আবেদন করছে। অতিরিক্ত চাপ সামলাতে ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার বুথ, জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি ভিসা আবেদনকেন্দ্রের কর্মঘণ্টা বাড়িয়েছে ভারতীয় হাইকমিশন। গত তিন বছর ধরে ভারতের পর্যটকদের মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষ পর্যায়ে আছে। এরপর বাংলাদেশের মানুষ বেশি যায় থাইল্যান্ড-ব্যাংককে। এই দেশেও বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্হানে আছে। এ বছর সরাসরি মালদ্বীপে যাওয়া যাবে বলে সেখানেও একটা বড় চাপের সম্ভাবনা আছে।
গত দুই দশক ধরে দেশের মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী চিকিত্সা, বেড়ানো, পড়াশোনা, কেনাকাটাসহ নানা কারণে দেশের বাইরে যেতে শুরু করেছে। তখন থেকে বাড়ছে দেশের বাইরে ঈদ করার প্রবণতা—এমনটাই মনে করেন ট্যুরিজম ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টিডাব) সাবেক চেয়ারম্যান এবং সেন্টার ফর ট্যুরিজম স্টাডিজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জামিউল আহমেদ। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, ‘করোনার কারণে আমাদের ট্যুরিজম ১০০ শতাংশ বন্ধ ছিল। এখন করোনা কিছুটা শিথিল হওয়ায় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে দেখা যাচ্ছে উপচে পড়া ভিড়। ঈদের ছুটিটাও লম্বা, তাই আমরা আশাবাদী—এ বছর প্রায় ২০ লাখ মানুষ দেশের বাইরে ঈদ করতে যাবে। আর দেশের ভেতরে ১ কোটি মানুষ ভ্রমণ করবে। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর কিছু কম বা বেশিও হতে পারে।’ তিনি বলেন, ভারতে আগে আমেরিকান ট্যুরিস্ট বেশি হলেও এখন বাংলাদেশিরা বেশি। এর মধ্যে ভারতীয় ভিসার জন্য এক দিনে ১১ হাজার আবেদন পড়েছে।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)-এর সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. আকবর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কোভিডের কারণে পর্যটনশিল্পে ২০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আমরা সরকারি কোনো সহযোগিতা পাইনি।’ এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে তিনি সরকারের কাছে ১০ বছর ‘ট্যাক্স হলি ডে’র আহ্বান জানান। আর এজন্য সরকারকে পরিকল্পনা করে পর্যটনকেন্দ্রের সংখ্যাও বাড়াতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
টোয়াবের সভাপতি রাফিউজ্জমান বলেন, ‘এবার ঈদের ছুটি কাজে লাগাতে আমাদের সদস্যরা ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, মিশর, আরব আমিরাত, দুবাই প্রভৃতি দেশ ভ্রমণের প্রচার চালিয়েছে। বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্হা করছে। এছাড়া আমরা দেশের মধ্যে পর্যটনকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। এবার ঈদে আমরা কক্সবাজার-সমুদ্রসৈকতে বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করার ব্যবস্হা করেছি। এছাড়া সিলেটের চা-বাগান, পাহাড়ে বেড়ানোরও বিশেষ ব্যবস্হা থাকছে। যারা রোমাঞ্চ পছন্দ করে, তাদের জন্য সুন্দরবনে বেড়ানোর ব্যবস্হা করেছি। পোশাকশিল্প যেমন আমাদের গর্ব,পর্যটনশিল্পকেও আমরা একই কাতারে নিতে কাজ করছি।’ অল্প সময়েই বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে ভালো অগ্রগতি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মাদকের বড় চালানে জড়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স
কুমিল্লায় বিলুপ্তির পথে দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ